Oracle Database for Biginers

 উৎসর্গ

    সকল বীরঙ্গনা মা ও জাতির সূর্য সৈনিকদের স্মৃতিতে-

    (যাদের আত্মত্যাগের ফসল আজকের জননী, জন্মভূমি আমার-)



    আমার কথা-

    অনেকদিন ধরেই জাতির প্রগতি/উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে কিছু একটা করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আসছিলাম। কিন্তু, অর্থ-সময়, পরিবেশ কোনটাই অনুকুলে না থাকায় স্বপ্নরুপ নেয়নি বাস্তবে। তবে, জীবনের যে কোন অবস্থায় কমবেশী দেশ তথা জনগনের কল্যানে কাজ করতে চেষ্টা করেছি।

     

    বর্তমান সময়টা কম্পিটারের যুগ তথা তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বর্তমানে সকল তথ্যই নিয়ন্ত্রিত হয় ডাটাবেসের মাধ্যমে। ডাটাবেস ছাড়া বর্তমানে কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কথা চিন্তাই করা যায়না। সরকারী প্রতিষ্ঠান, টেলিকম কোম্পানী, মোবাইল কোম্পানী, পাসপোর্ট অফিস, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাংক, বীমা এমনকি প্রাইভেট অফিস, মিল-ফ্যাক্টরী, শিক্ষা-বোর্ড, স্কুল, কলেজসহ সকল ক্ষেত্রে তথ্য মজুদ এবং আদান প্রদানের জন্য ডাটাবেসের ভুমিকা অপরিহার্য। এক কথায় বলা যায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা মানেই ডাটাবেস। পৃথিবীর উন্নত সকল দেশ আজ ডাটাবেস নির্ভর। তাদের সকল কিছু এখন ডেক্সটপ বা ল্যাপটপের মধ্যে। এক কথায় বলা যায় এটিকে বাদ দিয়ে আনুধিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সনাতন ফাইল কিপিং পদ্ধতি আজ অচলএবং তা দিয়ে পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলা অসম্ভব। আর সেকারনেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডাটাবেসের ব্যবহার আজ অতীব গুরুত্বপুর্ণ। আমরা এদিক দিয়ে পাশ্ববর্তী দেশগুলির থেকে যথেষ্ট পিঁছিয়ে আছি।

     

    ডাটাবেস দূনীতি রোধে একটা বড় হাতিয়ার হিসাবে কাজ করতে পারে। সকল তথ্য কম্পিউটারাইজড করার মাধ্যমেই কেবল দূর্নীতি অনেক কমেই যাবে না শুধু ,নির্মূল করাও যেতে পারে। শক্তিশালী ডাটাবেস ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে যেতে পারে। সুষ্ঠ ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ডাটাবেস অপরিহার্য। বিশেষ করে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্যতো বটেই। এটিএম ব্যাংকিং সিস্টেম একটা সম্পূর্ণ ডাটাবেস নির্ভর ব্যাংকিং সিস্টেম।

     

    রাজনৈতিক অদুরদর্শিতার কারনে- সাবমেরিন কেবল সংযোগ পেতে যেমন অনেক দেরী হয়ে গেছে, তেমনি ভাবে এক্ষেত্রে দেরী করলেও জাতিকে তার মূল্য দিতে হবে সুদে-আসলে। এসব কারনে, জাতিকে উদ্ভুদ্ধ করার প্রয়াসে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমার এই চেষ্টায় যদি জাতির সামান্যতম উপকার হয়, তাতেই আমার আনন্দ ও প্রাপ্তি।

     

    আমি আমার সধ্যমত সহজ ও সাবলীল ভাবে সকল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং আশারাখি যে কোন পর্যায়ের ওরাকল শিক্ষার্থীদের এই বইটি উপকারে আসবে এবং ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে তাদের ভূমিকা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হবে।

     

    কখনও কখনও মনে হতে পারে অপ্রোজনীয় বা একই জিনিষ বার বার এসেছে, আসলে প্রয়োজনের তাগিদেই এমনটি করা হয়েছে। তদুপরি প্রথমে বাংলা বর্ননা বেশী থাকলেও ধীরে ধীরে কমিয়ে ইংরেজি করা হয়েছে। কারণ ইংরেজী না জানলে এ কোর্সটি তেমন উপকারে আসবে না। তাছাড়া ওসিপি (OCP- Oracle Certified Professional) পরীক্ষা দিতে হলে বা অন্য যেকোন প্রতিযোগীতায় বা স্বাভাভিক ভাবেই ইংরেজীর দরকার পড়বে। ভুল ত্র“টি সংশোধনে শিক্ষার্থীদের সাহায্য আমার প্রথম প্রকাশনাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস।

     

    আমার এই প্রচেষ্টায় যারা প্রেরণা যুগিয়েছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করেছে তাদের সকলকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি। বিশেষ ভাবে আমার শিক্ষক কাম বন্ধু মিঃ আব্দুল হাফিজ চৌধুরী (পাকিস্তানী) এবং ছোট ভাই সমতুল্য শহীদুল ইসলাম সুজন ও বন্ধুবর জনাব দেলোয়ার হোসেনের নাম বিশেষ ভাবে স্মরণ যোগ্য।

     

    বর্তমানে আমাদের দেশের ভোটার আইডি কার্ড বা ন্যাশানাল আইডি কার্ডের বিষয়টি বুঝলে বোঝা যাবে- এটি কত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে সকল কিছুকে ডাটাবেসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতে পারে। আর সেক্ষেত্রে ওরাকলের কোন বিকল্প নেই। 

     

    সেলিম মাহমুদ

    প্রাক্তন শিক্ষক-খান জাহান আলী কলেজ, বাগেরহাট। (1996-2002)

    সাঃ সম্পাঃ, সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, (সিবিএ) (1988-1994)

    mahmud15d@yahoo.com

    mahmud15d@gmail.com

    যে কারনে-

     

    একটি উদাহরন দিতে চাই-

    ধরা যাক কোন এক ব্যক্তি চাকরীর জন্য কোন সরকারী প্রতিষ্ঠানে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। সকল সার্টিফিটের ফটোকপি সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দিয়েছেন। এখন নিযোগ কর্তৃপক্ষ চাইলেন সকল সার্টিফিকেট, ইউনিয়ন পরিষদের  সার্টিফিকেট, এবং অন্যান্য কাগজ-পত্র পরীক্ষা করে পরে ইনটারভিউ কার্ড ইস্যু করবেন। ধরা যাক- প্রাথমিক বাছাইয়ের পর সর্বমোট ২০০০ প্রার্থীর সার্টিফিকেট যাচাই বাছাই করতে হবে এবং প্রত্যেকের তিনটি (SSC,HSC,BA) সার্টিফিকেট আছে। জালিয়াতি যে কোন স্তরেই থাকতে পারে। তবুও চাকুরী দাতা প্রতিষ্ঠান যদি সর্বশেষ মার্টিফিকেটটিও যাচাই করতে চায়, তাহলে প্রত্যেকের সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে, অনুরোধ করতে হবে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারমিশনও নিতে হবে। সব কিছুর পরেও বোর্ডের এই কাজ করতে কত সময় লাগবে? ৩৫ বছরের সকল রেজাল্ট বুক খুজঁতে হবে। আবার ভেরিফাই করতে হবে। ইত্যাদি কাজ শেষ করতে ২/১ বছরও সময় লেগে যেতে পারে। সুতরাং সেক্ষেত্রে নিয়োগ হবে যাচাই ছাড়াই। নিয়োগের পরে যাচাই হবে কি? হলেও তা সঠিক হবে কি?

     

    এত সকল জটিলতার দরকার কি? আমাদের যদি এরকম একটি ডাটাবেস থাকতো, যাতে সকলের শিক্ষাগত যোগ্যতার ডাটা থাকতো এবং বোর্ড এটি প্রতিবছর আপডেট করতো তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াতো? একদিনের মধ্যেই আমরা বা উক্ত কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বা নেট-ওয়ার্ক থেকে সার্টিফিকেট যাচাই করে নিতে পারতেন। চিন্তা করে দেখুন এক বছরের অনেকগুলো লোকের কাজ একদিনে একজনে করে ফেলতে পারে। সময় বাচঁবে, টাকা সেভ হবে, সর্বপরি একুরেসী আসবে। দূনীর্তির কোন সম্ভাবনা থাকবে না।

     

    ধরাযাক- ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেট যাচাই করতে হবে। তাহলে কমপক্ষে ২০০০ টিঠি ইস্যু করতে হবে। সময়মত তথ্য পাওয়া গেলেও ২/১ মাস সময়তো এব্যাপারে ব্যয় হতেই পারে। খচরের ব্যপারটিতো আছেই। কিন্ত বর্তমান ভোটার আইডি কার্ডে বদৌলতে যেকোন সময় ইন্টারনেট থেকে সামান্য সময় ব্যয় করে অর্থ ছাড়াই সঠিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কাজেই আর কোন কিছু বলার দরকার আছে বলে মনে করিনা। এভাবে সকল কিছুকে কম্পিউটারের / ডাটাবেসের আওতায়  এনে সঠিক উন্নতি ও প্রগতি সম্ভব হতে পারে।

    এভাবে ডিস্ট্রিবিইটেড ডাটাবেস ব্যবহার করে সকল কিছুকে ডাটাবেসের আওতায় এনে সকল মামলার রেকর্ড এনিট্র করে সেন্ট্রালাইজড করা সম্ভব। এভাবে হাজার উদাহরন দেওয়া যাবে। যে কোন প্রতিষ্ঠানের ২/৪ হাজার কর্মচারীর বেতন, ছুটি ইত্যাদি অত্যন্ত সহজভাবে, ত্র“টিমুক্ত ভাবে রক্ষনাবেক্ষন করা যাবে।

    জমি-জমা, কোর্ট-কাছারী, স্কুল-কলেজ সকল কিছুকে কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। আর সে কারনেই আমার মনে হয়েছে-আর দেরী নয় এখনই সেই লক্ষে কাজ শুরু করতে হবে। কাজ শুরু করতে হলে দরকার দক্ষজনশক্তি। বিশেষ ভাবে ডাটাবেসের উপর দক্ষ জনশক্তি দরকার হবে।

    তদুপরি বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ওরাকল ডেভালোপ্যার ও ডিবিএ এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এমনকি খোদ আমেরিকা, ইউরোপ, কানাডা প্রভৃতি উন্নত দেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুতরাং দক্ষ আইটি প্রোফেসনালস্ গড়ে তুলতে হবে এখনই। জনসংখ্যাকে বোঝায় নয়, শক্তিতে পরিনত করতে হবে। দেশের বিশাল শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করা গেলে দেশের উন্নয়ন অবশ্যসম্ভাবী। তাহলে জাতি হিসাবে আর বিদেশে আমাদেরকে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে প্রবাস জীবন যাপন করতে হবে না। নীচু শ্রেণীর কাজ করতে হবে না। একটি ভালো অবস্থান তৈরী হবে। আমাদের অনেক অর্জিত গৌরবের সংগে এবিষয়টিও যোগ হবে গৌরব গাঁথায়।

    ডাটাবেসে বিশেষ ভাবে ওরাকলের উপর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে এখনই। সেইলক্ষে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ওরাকলে ইংরেজীর বিকল্প নেই। কিন্তু মাতৃভাষায় কিছুটা বা বেসিক ধারণা নিতে পারলে অনেক দুর এগিয়ে থাকা যায়। যতটুকু সম্ভব আমি চেষ্টা করেছি সহজবোধ্য ও সরল ভাষায় উপস্থাপন করার। এই বইটি পড়ে বিশেষ করে প্রাকটিস করতে পারলে ডাটাবেস (সি-কুয়েল/পিএল-সি-কুয়েল) সম্পূর্ণরুপে আয়ত্তে আসবে।

    অবশেষে, আমার আশা যদি দেশ-মাতৃকার তথা জাতির সামান্যতম উপরকারে আসে আমার এই লেখা, এমনকি একজন ব্যক্তিও যদি উৎসাহিত হয় বা শিক্ষা গ্রহণ করে, তবেই আমার প্রয়াস স্বার্থক বলে মনে করবো।

    ওরাকল ১০ জি ঃ-

    ওরাকল ডাটাবেস-১০জি ওরাকলের অন্যান্য ভার্সনের সাথে সংগতি রেখেই তৈরী। আপগ্রেড, ডেভালেপর, এডমিনিস্ট্রটিভ এবং ইউজার দের জন্য স্টোরেজ, প্রোসেসিং ও ডাটা কুয়েরীর ব্যপক সুবিধা বৃদ্ধি /শক্তিশালী করা হয়েছে।  

    নতুন ফিচারগুলি যথারীতি আলোচনা করা হয়েছে

    যেভাবে 

       ১.  বইটি চলতি ভাষা ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অনুশীলন নির্ভর।

    ২.  যে কোন ডাটাবেসে প্রাথমিক ধারণা থাকলে ভালো হবে।

    ৩.  নবীনরা পিছিয়ে পড়বেন না।

    ৪.  ওরাকলের পূর্ববর্তী ভার্সসেন সাথে মিল রেখেই তৈরী।

    ৫.  প্রশ্ন এবং উত্তর সংগত কারণেই ইংরেজীতে রাখা হয়েছে।

    কোন মন্তব্য নেই:

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন